মা'আরিফুল হাদীস
معارف الحديث
আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর বান্দাদের উপর যে অগণিত দয়া ও অনুগ্রহ করেছেন, এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় অনুগ্রহ হচ্ছে, তিনি তাদের কল্যাণ ও মুক্তির জন্য নবুওয়ত ও রেসালতের মহান ও মুবারক ধারা চালু করেছেন এবং যখনই মানবজাতির জন্য আসমানী হেদায়াত ও পথ নির্দেশনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে, তখন তাদের মধ্য থেকেই কোন এক বান্দাকে নিজের নবী এবং তাদের পথপ্রদর্শক বানিয়ে আপন হেদায়াতসহ তাদের মধ্যে প্রেরণ করে দিয়েছেন।
নবী-রাসূলদের আগমনের এই ধারা হাজার হাজার বছর পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। অবশেষে শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (ﷺ) এর উপর এই ধারাকে সমাপ্ত করে দেওয়া হয় এবং তাঁর মাধ্যমে সেই সর্বশেষ এবং পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা ও হেদায়াত প্রেরণ করা হয়, যা সর্বকালের জন্য যথেষ্ট।
আসমানী শিক্ষা ও হেদায়াতের যে মহাসম্পদ খাতামুন নাবিয়্যীন হযরত মুহাম্মদ (ﷺ)এর মাধ্যমে এই জগত লাভ করেছে, এর দু'টি অংশ রয়েছে। একটি আল্লাহর কিতাব কুরআন মজীদ, যা শব্দ ও অর্থ উভয় দিক দিয়েই আল্লাহর কালাম। দ্বিতীয়টি হচ্ছে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)এর ঐসব বাণী এবং তাঁর সকল বাচনিক ও বাস্তব কর্মধারা সংক্রান্ত শিক্ষা ও পথনির্দেশ, যা তিনি আল্লাহর রাসূল ও তাঁর কিতাবের শিক্ষক ও ব্যাখ্যাতা এবং আল্লাহর ইচ্ছা ও অভিপ্রায়ের প্রতিনিধি হিসাবে উম্মতকে দান করতেন। সাহাবায়ে কেরাম এগুলো সংরক্ষণ করে উম্মতের পরবর্তী লোকদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন এবং পরবর্তী লোকেরা এগুলো পূর্ণ বর্ণনা পরম্পরার সাথে গ্রন্থাকারে সংরক্ষণ করে নিয়েছেন। তাঁর এ শিক্ষা ও পথ নির্দেশের শিরোনাম হচ্ছে হাদীস বা সুন্নাহ।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তো নিজের স্বাভাবিক জীবন কাটিয়ে আল্লাহর ফায়সালা অনুযায়ী এই দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়ে গেছেন; কিন্তু বিশ্বমানবের চিরকালীন পথপ্রদর্শনের জন্য নিজের আনীত শিক্ষা ও হেদায়াতের এই দু'টি অংশ অর্থাৎ কুরআন ও সুন্নাহকে রেখে গিয়েছেন। আর আল্লাহ্ তা'আলা এ দু'টি বিষয়কে (নিজ নিজ স্তর অনুযায়ী) প্রত্যেক যুগে সংরক্ষিত ও সমুজ্জ্বল রাখার এমন বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা করেছেন যে, চিন্তাশীল ও বুদ্ধিমান লোকদের জন্য এটা আল্লাহ্ তা'আলার কুদরতের নিদর্শনাবলীর মধ্যে এক বিরাট নিদর্শন এবং খাতামুল আম্বিয়া (ﷺ)এর মু'জেযাসমূহের মধ্যে এক বিরাট মু'জেযা।
আল্লাহর এসব ব্যবস্থার মধ্যে একটি ব্যবস্থা এই যে, যুগের চাহিদা অনুযায়ী কুরআন ও হাদীসের যে ধরনের খেদমতের প্রয়োজন দেখা দেয়, আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর কিছু বান্দার অন্তরে এর আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি করে দিয়ে তাদেরকে এই খেদমতের প্রতি মনোযোগী করে দেন। নবী-যুগ থেকে শুরু করে এই কাল পর্যন্ত কুরআন-হাদীসের বিভিন্ন খেদমত যেসকল ধারায় সম্পন্ন করা হয়েছে, (কেউ চিন্তার দৃষ্টিতে দেখলে সে স্পষ্ট দেখতে পাবে যে, এসব যা হয়েছে) সেটা প্রত্যেক যুগের প্রয়োজন ও চাহিদা পূরণের এক খোদায়ী ব্যবস্থাপনাই ছিল, আর যেসকল বান্দার মাধ্যমে এই খেদমত সম্পন্ন হয়েছে, তারা যেন কেবল যন্ত্রের ভূমিকায় ছিলেন।
এই সংক্ষিপ্ত কথাটির বিস্তারিত ব্যাখ্যা যদিও খুবই চিত্তাকর্ষক ও ঈমান উদ্দীপক, কিন্তু খুবই দীর্ঘ। আর জ্ঞানীদের জন্য যেহেতু এতটুকু ইঙ্গিতই যথেষ্ট, তাই আলোচনা দীর্ঘায়িত না করে বলতে চাই যে, আল্লাহ্ তা'আলা যেভাবে আমাদের এ যুগে এবং আমাদেরই দেশে তাঁর কিছু বান্দাকে দিয়ে কুরআন মজীদের এমন খেদমত করিয়েছেন, যা যুগচাহিদার দাবী ছিল। আল্লাহর শোকর যে, ঐসব বান্দার পরিশ্রম ও সাধনা দ্বারা ঐ সময়ের প্রয়োজন পূরণ হয়ে যায়। তদ্রূপভাবে আজ থেকে প্রায় বার বছর পূর্বে (১৩৬১ হিজরীতে) এই অধম বান্দার অন্তরে এ চিন্তা আসে যে, এই যুগের বিশেষ অবস্থা ও প্রয়োজনের প্রতি লক্ষ্য রেখে উর্দু ভাষায় হাদীসে নববীরও একটা খেদমত করা হোক। আর এর জন্য প্রচলিত হাদীস গ্রন্থসমূহের (ছেহাহ সিত্তা অথবা মেশকাত শরীফ ইত্যাদি) মধ্য থেকে কোন একটির ব্যাখ্যা লিখার পরিবর্তে এটা অধিক উপযোগী মনে হল যে, হাদীসে নববীর একটা মধ্যম ধরনের নতুন সংকলন এ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে পৃথকভাবে সাজানো হোক এবং এ যুগের সাধারণ শিক্ষিত মুসলমানদের ধর্মীয় শিক্ষাগত এবং চিন্তাগত অবস্থা এবং এরই সাথে বর্তমান যুগের বিশেষ বিশেষ একাডেমিক চাহিদাকে সামনে রেখে সাধারণবোধ্য ভাষায় হাদীসগুলোর ব্যাখ্যাও করা হোক। তারপর সে ইচ্ছা অনুযায়ী এ কাজের একটি চিত্র ও মাপকাঠি সামনে রেখে আল্লাহর নাম নিয়ে সে বছরই এ কাজ শুরুও করে দিলাম। কখনো কখনো মাসিক 'আল ফুরকানে' এর কোন কোন অংশ 'মা'আরিফুল আহাদীস' শিরোনামে প্রকাশিতও হতে থাকে। কিন্তু সেই বছরগুলো অধমের এ অবস্থা ছিল যে, কাজের গতি খুবই মন্থর থাকে; বরং মাঝে অনেক সময় এ অবস্থায় অতিবাহিত হয়েছে যে, আমি এ কাজের প্রতি কোন মনোযোগই দিতে পারিনি। আমি তখন নিরাশ হয়ে গিয়েছিলাম যে, এ কাজটি হয়তো কোন উল্লেখযোগ্য সীমা পর্যন্তই পৌঁছাতে পারবে না; কিন্তু যিনি কাজ নিবেন তাঁর ফায়সালা ছিল কাজ নেওয়ার।
এ কিতাবের প্রথম খন্ডটি হচ্ছে কিতাবুল ঈমান। এতে কেবল ঐসব হাদীস লিপিবদ্ধ করা হয়েছে, যেগুলো ঈমানের সাথে সংশ্লিষ্ট। তবে কেয়ামত, আখেরাত, জান্নাত ও জাহান্নাম সংক্রান্ত হাদীসগুলো অন্যান্য হাদীসগ্রন্থে পৃথকভাবে বর্ণনা করা হলেও আমি কিতাবুল ঈমানের মধ্যেই এগুলোর আলোচনা বেশী উপযোগী মনে করেছি এবং সেই হিসাবে এগুলোকে কিতাবুল ঈমানেরই অন্তর্ভুক্ত করে দিয়েছি। তাই এই খন্ডের অর্ধেক হাদীসই মৃত্যুপরবর্তী বিষয়াবলী অর্থাৎ বরযখ, কবর, কেয়ামত, আখেরাত এবং সেখানে সংঘটিত ঘটনাবলী যেমন হিসাব-কিতাব ও জান্নাত-জাহান্নামের সাথে সংশ্লিষ্ট। এগুলো ঐসব হাদীস, যার দ্বারা শেষ দিবসের প্রতি ঈমান এর বিস্তারিত আলোচনা ও ব্যাখ্যা জানা যাবে।
এ কিতাবে উল্লেখিত হাদীসসমূহ অধিকাংশই মেশকাত শরীফ থেকে সংগৃহীত হয়েছে। কেবল শুরুর দিকে ৮০ পৃষ্ঠা পর্যন্ত কয়েকটি হাদীস এমন রয়েছে, যেগুলো মেশকাত থেকে নেয়া হয়নি; বরং সরাসরি ঐসব কিতাব থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে, যেখান থেকে মেশকাতের হাদীস সংকলন করা হয়েছে। তাই এ কিতাবের কোন হাদীস যদি মেশকাতে পাওয়া না যায় অথবা মেশকাতে উল্লেখিত এবং এই কিতাবে উল্লেখিত হাদীসের শব্দমালায় যদি কোন পার্থক্য দেখা যায়, তাহলে বুঝে নিতে হবে যে, এই হাদীসটি সরাসরি মূল কিতাব থেকে নেওয়া হয়েছে।
পাঠকদের সুবিধার জন্য হাদীসগুলোকে বিভিন্ন শিরোনামের অধীনে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। চিন্তা করলে দেখা যাবে, এগুলোর অধিকাংশ শিরোনাম হাদীসের মর্ম ও উদ্দেশ্য উপলব্ধি করতে পাঠকদের যথেষ্ট সাহায্য করবে। কিতাবটি যেহেতু সাধারণ শিক্ষিত মুসলমানদের জন্য লিখা হয়েছে, তাই হাদীসসমূহের বিন্যাস ও ক্রমবর্ণনায় রেওয়ায়তের স্তর ও বিশুদ্ধতার স্তরের দিকে লক্ষ্য না করে এ দিকে লক্ষ্য রাখা হয়েছে যে, হাদীসের উদ্দেশ্য ও মর্ম উপলব্ধি করার ক্ষেত্রে এই বিন্যাসই যেন পাঠকদের জন্য সহায়ক হয়ে যায়। তদুপরি কোন হাদীসগ্রন্থ অধ্যয়ন করার সময় সর্বদা এ কথা মনে রাখতে হবে যে, কিতাবটির সংকলক যে ক্রমধারায় হাদীসগুলো লিপিবদ্ধ করেছেন, এটা সংকলকের নিজের মত ও রুচিবোধের ব্যাপার। অন্যথায় প্রতিটি হাদীসই স্ব স্ব ক্ষেত্রে একটি উপদেশ ও শিক্ষা। এ বিষয়টিও সম্ভব যে; কোন হাদীসগ্রন্থের একই পৃষ্ঠায় এবং একই শিরোনামে আনীত দু'টি হাদীসের মধ্যে একটি নুবুওয়তের সূচনালগ্নের হবে, আর দ্বিতীয়টি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর শেষ জীবনের হবে।
হাদীস অধ্যয়নকারীদের আরেকটি বিষয়ের প্রতিও লক্ষ্য রাখতে হবে যে, অধিকাংশ হাদীসই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মজলিসী বক্তব্য ও উপদেশ বিশেষ। অথবা তাঁর সামনে উত্থাপিত প্রশ্নের উত্তর অথবা কোন সাময়িক বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত দিক-নির্দেশনা ও সতর্কবাণী। তাই ঐ ক্ষেত্র, পরিবেশ এবং শ্রোতাদের অবস্থা ও বৈশিষ্ট্যকে সামনে রেখে এগুলো উপলব্ধি করার চেষ্টা করতে হবে। এসব বিষয় বিবেচনায় না রেখে সাধারণ লিখকদের রচিত বইপত্রের মত যদি চিন্তা করা হয়, তাহলে বিভিন্ন ধরনের জটিলতা ও সংশয় সৃষ্টি হতে পারে। আর এই সূক্ষ্ম বিষয়টির প্রতি লক্ষ্য রাখলে ইনশাআল্লাহ্ কোন জটিলতা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হবে না।
যেহেতু এই সংকলনটির আসল উদ্দেশ্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর হাদীস ভান্ডারে সংরক্ষিত শিক্ষা ও হেদায়াতকে এই যুগের সাধারণ শিক্ষিত মুসলমানদের কাছে পৌছে দেওয়া এবং তাদের জন্য নবীর অনুসরণের পথ সহজ করে দেওয়া, তাই হাদীসের অনুবাদ বাক্যবিন্যাস ও শাব্দিক তরজমার অনুসরণ করাকে জরুরী মনে করা হয়নি; বরং হাদীসের উদ্দেশ্য ও মর্মকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলার প্রতিই লক্ষ্য রাখা হয়েছে। এ জন্য অনুবাদ ও ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে ভাষাও যথাসম্ভব সহজ ব্যবহার করা হয়েছে।
যেসব হাদীসের ব্যাপারে কোন মহলে ভুল বুঝাবুঝি রয়েছে অথবা কোন কোন ভ্রান্তবিশ্বাসী লোক এসব হাদীসের দ্বারা বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপপ্রয়াস চালিয়ে থাকে, এগুলোর ব্যাখ্যার বেলায় এ ধরনের বিভ্রান্তি দূর করার জন্য সবিশেষ চেষ্টা করা হয়েছে। যেমন, কোন কোন হাদীসে কেবল 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলার উপর জান্নাতের সুসংবাদ প্রদান করা হয়েছে অথবা প্রত্যেক কালেমা পাঠকারীর উপর জাহান্নামের আগুন হারাম হওয়ার কথা বলা হয়েছে। অনুরূপভাবে কোন কোন হাদীসে এমন ব্যক্তিকে কাফের বলতে নিষেধ করা হয়েছে, যে মুসলমানদের যবেহকৃত প্রাণীর গোশত খায় ও তাদের কেবলার অনুসরণ করে। আবার এর বিপরীত কোন কোন হাদীসে কোন কোন গুনাহ সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, যারা এতে লিপ্ত হয় তারা মুসলমানই থাকে না এবং ঈমানের মধ্যে তার কোন অংশই নেই। মোটকথা, এ ধরনের জটিল ও ব্যাখ্যাযোগ্য হাদীসসমূহের ব্যাখ্যা আল্লাহ তা'আলার তওফীক ও তাঁর বিশেষ সাহায্যে এমনভাবে করা হয়েছে যে, এটা অধ্যয়ন করার পর ইনশাআল্লাহ্ কোন বিভ্রান্তির অবকাশ থাকবে না। তবে কারো ভাগ্যে যদি আল্লাহর পক্ষ থেকে হেদায়াত ও সুমতি নির্ধারিত না হয়ে থাকে, তাহলে ভিন্ন কথা।
হাদীস নং ১ থেকে ৭০ পর্যন্ত কোন শিরোনামের অধীন মূল হাদীসের পূর্বে কোন সূচনা বক্তব্য লেখা হয়নি এবং এর প্রয়োজনও মনে করা হয়নি। কিন্তু পরের যে হাদীসগুলো বরযখ জগত, কবরের আযাব এবং কেয়ামত ও আখেরাতের সাথে সংশ্লিষ্ট, এগুলো বুঝানোর জন্য মূল হাদীসের পূর্বে যেখানে যেখানে ভূমিকা ও ব্যাখ্যামূলক নোট লেখার প্রয়োজন মনে করেছি, সেখানে এই ধরনের নোট লিখে দিয়ে পাঠকদের চিন্তাকে পরিষ্কার ও দ্বিধামুক্ত করার চেষ্টা করেছি। বস্তুতঃ বরযখ, কেয়ামত, পুলছিরাত, মীযান, হাউযে কাউছার, শাফাআত, জান্নাত, জাহান্নাম এবং দীদারে এলাহী ইত্যাদি বিষয়াবলী সম্পর্কে যে বিস্তারিত ভূমিকামূলক নোট লিখে দিয়েছি, আশা করা যায়, পাঠকদের জন্য এটা চিত্তের প্রশান্তি ও ঈমান বৃদ্ধির কারণ হবে ইনশাআল্লাহ্।
শেষ নিবেদন
সম্মানিত ও ভাগ্যবান পাঠকদের খেদমতে আমার নিবেদন এই যে, হাদীসের অধ্যয়ন যেন কেবল জ্ঞান চর্চা হিসাবে না করা হয়; বরং এটা করতে হবে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে নিজের ঈমানী সম্পর্ক তাজা করার উদ্দেশ্যে এবং আমল ও হেদায়াত লাভের নিয়্যতে। তাছাড়া হাদীস অধ্যয়নের সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মর্যাদা ও ভালবাসাকে অন্তরে অবশ্যই জাগ্রত রাখতে হবে। হাদীস এভাবে পড়তে হবে এবং অন্যকে শুনাতে হবে যে, আমরা যেন হুযুর (ﷺ) এর পবিত্র মজলিসে উপস্থিত, তিনি হাদীস বলছেন, আর আমরা শুনে যাচ্ছি। এমন যদি করা হয়, তাহলে হাদীসের নূর ও হেদায়াত ইনশাআল্লাহ্ নগদে লাভ হয়ে যাবে। আল্লাহ্ আমাদেরকে সেই তওফীক দান করুন।